নুর আলম মাদবর, বিশেষ প্রতিনিধি।
শরীয়তপুরের জাজিরা পৌরসভা কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণির হলেও বাস্তবে নাগরিক সেবার চিত্র ভিন্ন। বাসস্ট্যান্ড, পাবলিক টয়লেট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়কবাতির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীদের।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ব্যাগ হাতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। কোথাও নেই বসার জায়গা কিংবা ছাউনি। বিশেষ করে বয়স্ক ও নারী যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার পাবলিক প্লেসগুলোতে পর্যাপ্ত ও ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেট নেই। যেগুলো রয়েছে, সেগুলোও দীর্ঘদিন ধরে অচল। পাড়া-মহল্লায় জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। অনেক সড়কে নেই পর্যাপ্ত সড়কবাতি। ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ৭- জুলাই ১৬ বর্গমাইল জায়গা নিয়ে জাজিরা পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা হলেও ২০১৮ সালের ১-জানুয়ারি দ্বিতীয় শ্রেণি ও সবশেষ ২০২৩ সালের ৫-অক্টোবর প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ঘোষণা করা হলেও সেবার মান তেমন বাড়েনি।
বর্তমানে পৌরসভাটিতে জনসংখ্যা রয়েছে ৩৩‘হাজার ৭’শ ২০ জন এবং ভোটার সংখ্যা ১৭‘হাজার ২’শ ৫৭। কাঁচা-পাক মিলিয়ে ৪১.৫ কিলোমিটার সড়কের জন্য সড়ক বাতি রয়েছে মাত্র ৩’শ ১৩’টি। পাব্লিক প্লেস গুলোতে পাব্লিক টয়লেটের সংখ্যা মাত্র ৯’টি। সেগুলো আবার ব্যাবহারের অনুপযোগী। ময়লা-আবর্জনা পরিবহনের জন্য ২’টি গার্ভেজ ট্রাক থাকলেও দুটোই অকেজো। দুইটি ভ্যান গাড়ি দিয়ে ৪’জন পরিচ্ছন্ন কর্মী মিলে কোনোরকমে চলে পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের কাজ।
জাজিরা বাজারের ফার্মেসী ব্যাবসায়ী অমিত হাসান বলেন, নামেমাত্র পাব্লিক টয়লেট দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এগুলো ব্যাবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে গেছে। দোকানের সামনেই জমে রয়েছে ময়লার স্তূপ। পাশেই মানুষ প্রস্রাব করছে। নিয়মিত পৌর কর দিলেও পৌরসভার লোকজন এসব বিষয়ে কোনো ব্যাবস্থা নেয় না।
পৌরসভার ব্যাংকের মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. শিপন মিয়া বলেন, বাসার সামনেই ময়লার ভাগাড়। ভাগাড়ের সাথেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিছুদিন আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের গাফলতির ফলে আবারও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমতে শুরু করেছে গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গায়টিতে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও কাঙ্খিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেনা তারা। এসব বিষয়ে জাজিরা পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তাহমিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই কার্যক্রম গুলো শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘সিটিসিআর’ প্রকল্পের আওতায় ‘ইন্টিগ্রেটড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (IWM) প্রকল্প’টা শুরু হয়েছে। তারা ধীরে ধীরে কাজ করছে। ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশনটি ‘সিটিসিআরবি’ প্রকল্পের আওতায় ফিজিবিলিটি টেস্ট পর্যায়ে রয়েছে। জেলা পরিষদের আওতায় পাব্লিক টয়লেটের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া পৌরসভার উদ্যোগেও বিভিন্ন জনবহুল স্থান গুলোতেও পাব্লিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। বাস স্টেশনের বিষয়টি নিয়েও কাজ করবে বলে জানান তিনি।
