মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতে আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মৌসুমের সব ম্যাচের সম্প্রচার স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিসিসিআই’র এক সাবেক কর্মকর্তা এনডিটিভিকে জানান, বাংলাদেশের পদক্ষেপটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিটি কাজেরই একটি প্রতিক্রিয়া থাকে। বাংলাদেশ তাদের ক্ষমতার মধ্যে থেকে যা ঠিক মনে করেছে, সেটাই করছে। তকলিফ হুয়ি হ্যায় (সমস্যা হয়েছে), তাই প্রতিক্রিয়া তো হবেই।’ তবে তিনি আরও যোগ করেন, এই সিদ্ধান্তে ভারত বা আইপিএলের তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
গতকাল (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ মর্মে জানানো যাচ্ছে যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) একটি নির্দেশ জারি করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিসিসিআইয়ের এমন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা যায়নি, এবং এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে কষ্ট, বেদনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সব ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার/প্রচার স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর বিসিবি জরুরি বোর্ড সভা ডাকে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছেও আবেদন জানায়। সেখানে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। দুই দেশের একাধিক ভেন্যুতে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সমস্যায় পড়লে প্রতিক্রিয়া তো হবেই
